Search
Search
সমকামিতা কি মানসিক রোগ? কেনো মুসলিম রা সমকামিতা ঘৃনা করে?

সমকামিতা কি মানসিক রোগ? কেনো মুসলিম রা সমকামিতা ঘৃনা করে?

হোমোসেক্স বা সমকামিতার কোনো ঘটনা প্রকাশ পেলে অ্যাথেইস্ট ও বামেরা বেশ আনন্দ প্রকাশ করে বলে—এদেশেও নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বার খুলছে আস্তে আস্তে। ওটা নাকি অন্যান্য জিনিসের মতোই স্বাভাবিক বিবর্তনীয় জেনেটিক বিষয়।আপনি কি জানেন হোমোসেক্সুয়ালিটির পেছনে অনেক বড় একটা হাত কাজ করে যাচ্ছে? পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ বহু আগেই সমকামিতার বৈধতা দিয়েছে। নিজেদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করে বলে কথা। এখন নিজেরা যেহেতু বৈধতা দিয়েছে সেখানে প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড় পাবে কেন?

বাংলাদেশের সংবিধানে স্বকামিতা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে বিশাল একটি দল এখনো একে বৈধ করার জন্য যথেষ্ট তৎপর। বিশেষ করে ভারতীয় প্রোডাক্ট— ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, ক্লোজাপ, টেন মিনিট স্কুল, রবি ও এয়ারটেলসহ বিভিন্ন কোম্পানি অবাধ যৌনাচারের পাশাপাশি সমকামিতাকেও গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রচার করে থাকে।ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞাত অনেক মুসলিম শিক্ষিত ভদ্র লোকও বৈজ্ঞানিক যুক্তি নির্ভর সূক্ষ্ম প্রোপাগান্ডার জালে জড়িয়ে পড়ে বলেন, বিভিন্ন দেশে তো এর বৈধতা দিয়েছেই তাহলে বৈধতা দিতে সমস্যা কোথায়। এটা একটা নেচারাল ও ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। তাই কাউকে এভাবে জোরজবরদস্তি করা উচিত নয়।

হোমোসেক্সুয়ালিটি কি আসলেই জেনেটিক্যাল বিষয়?ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ছেপেছে—অনেক গবেষকরাই স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন যে, সমকামিতা কখনোই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, [শৈশবের কোনো অকারেন্স] আরো নানা কারণ এর জন্য দায়ী হতে পারে।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং জিনতাত্ত্বিক রবিন লোভেলের মতে, জিনের তারতম্য মানেই কোনো মানুষ স্বকামী হবে কিনা, সেটা বোঝায় না। সমকামিতার জন্য কখনোই কোন জিন দায়বদ্ধ হতে পারে না। তাহলে? যাদের পূর্বপুরুষরা বানর প্রজাতি থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তাদের সমস্ত আচার চিন্তা-চেতনা অন্যান্য প্রাণীর মতই হবে, এটা অস্বাভাবিক নয়।

একটা সময় পশ্চিমা বিশ্বে সমকামিতাকে একপ্রকার অসুখ বলে মনে করা হতো। তাই সেটি সারিয়ে তোলার নানা পদ্ধতি বিভিন্ন সমাজে অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সালে ও বিশ্ব সংস্থা ১৯৯০ সালে সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। উপরন্ত ইদানীং হোমোফোবিয়া তথা হোমোসেক্সুয়ালিটিকে ঘৃণা করা মানুষদের মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে করে তারা। এতে খুব সহজেই পৃথিবীর সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের মানসিক রোগী হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারবে কদিনপর।

বর্তমান পশ্চিমা সংস্কৃতি ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটা বিষয়ে প্রথমে ওদের তৈরি সংজ্ঞা আপনাকে মুখস্থ করাবে। আপনার শিক্ষা ব্যাবস্থায় তা অনুপ্রবেশ করাবে। তারপর নির্দিষ্ট বিষয়টি সে ছাঁচে ঢেলে আপনার নিকট উপস্থাপন করে বলবে— যুক্তি কি এটা বলে না? আপনিও উপলব্ধি করবেন— ঠিকই তো, সব মিলে যাচ্ছে!অথচ এর সংজ্ঞা অন্যভাবেও করা যেত কিংবা অন্যভাবে করা আছে।

যেটা আপনাকে আমাকে জানার কখনই সুযোগ দেওয়া হয়নি। হোমোসেক্সকে বৈধ করার জন্য এই যে এত এত যুক্তি তাদের—এটা জিনগত, বিবর্তনীয় বিষয়। রোগ, বিকৃত মানসিকতা বা মনোরোগ নয় বরং যৌনতারই আরেকটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কেননা বিজ্ঞানীরা প্রাণীজগতে পনেরশোর বেশি প্রজাতিতে সমকামিতার সন্ধান পেয়েছে। তাই এটি স্বাভাবিক যৌনতার একটি প্রকারমাত্র।

আচ্ছা। তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেই হোমোসেক্সুয়ালিটি বিভিন্ন প্রাণীর মাঝে পাওয়া গেছে বলে এটি অন্যান্য সাধারণ বিবর্তনীয় রূপের একটি, তাই বলে কি এটা আমাদের সমাজের জন্য স্বাভাবিক বলে গণ্য হবে?তাহলে তো বলা যায়, ধর্ষণের পেছনেও বিবর্তনগত কারণ রয়েছে।জীববিজ্ঞানী থর্নহিল ও এনথ্রোপলজিস্ট পালমারবলেন, একটি প্রতিযােগিতাপূর্ণ হারেম-বিল্ডিংস্ট্রাগলের কারণে লুজাররা ধর্ষণকে বিকল্প জিনপ্রমােটিং স্ট্রাটেজি হিসেবে ব্যবহার করলে সুবিধাপাওয়া যায়, আর এর প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মে আসায় পুরুষেরা ধর্ষণের প্রবণতা লাভ করেছে।এভাবে বলে আমরা ধর্ষণকে জাস্টিফাই (Justification) করে বলতে পারি না ধর্ষণ খুবন্যাচারাল একটি বিষয়, এটা হতেই পারে!ধর্ষণের ইভােলুশনারি এক্সপ্লানেশন ধর্ষণের ব্যাখ্যাদিতে পারে, অর্থাৎ মানুষ কেন ধর্ষণপ্রবণ হয় তার ব্যাখ্যা এখান থেকে পাওয়া যেতে পারে। কিন্ত এই ব্যাখ্যা কখনই ধর্ষণকে জাস্টিফাই করে না, বা ন্যায্যতা প্রদান করে না। অর্থাৎ, ধর্ষণের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে বলেই এটা নৈতিক এমন কিছু বলা যাবে না। আর সেই সাথে ইভােল্যুশন থেকে আসা প্রবণতা ধর্ষণের জন্য কোন এক্সকিউজ বা অজুহাতও হতে পারে না। এটা তাই অপরাধই থাকবে, কারণ মানুষের মধ্যে ধর্ষণ প্রবণতা থাকলেও নিজেকে কন্ট্রোল করার অপশন আছে।ঠিক তদ্রুপ সমকামিতাও একটি অপরাধ। এবং এটি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা মানুষের পক্ষে সম্ভব। তাই কোনো সমব্যক্তির প্রতি যৌণ অনুভব করলেই যে সেটা বৈধ হবে, এটা লজিক্যাল ফ্যালাসি বা কুযুক্তি ছাড়া কিছুই নয়।

প্রসঙ্গ যদি হয় প্রাণীজীবের মাঝে সমকামিতা আছে বলে এটা ন্যাচারাল কিছু, তাহলে অনেক প্রাণী, বিশেষ করে শুকর তার জন্মদাত্রী মায়ের সাথে যৌণসঙ্গমে লিপ্ত হয় ছোট বেলা থেকেই—পালে অনেক পুরুষ-শুকর থাকা সত্ত্বেও। তাহলে এই অজাচারকেও আমাদের ন্যাচারাল হিসেবে মেনে নিতে হবে! যেটা ইউরোপ, আমেরিকা খুবই সিম্পল মনে করে থাকে। পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ভারতেও এই অজাচারের ভাইরাস ক্রমশ বাড়ছে।বাংলাদেশে হোমোসেক্সুয়ালিটির ব্যাপারে কী আইন রয়েছে?সমলিঙ্গের প্রতি যৌন কার্যকলাপ আইনগত অবৈধ।দেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা মােতাবেক পায়ুমৈথুন তথা সমকাম শাস্তিযােগ্য ফৌজদারি অপরাধ। যার শাস্তি দুই বছর থেকে শুরু করে দশ বছর কারাদণ্ড এবং উপরন্তু জরিমানাও আরােপযােগ্য।পারিবারিক অধিকার সম্পর্কের স্বীকৃতির ব্যবস্থা নেই।আল্লাহ্ আমাদের সকলকে এই ফিৎনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

Written by
Tahmid Islam
Join the discussion

Menu

Tahmid Islam

Tahmid Islam is a young digital entrepreneur. He creates content and writes books about entrepreneurial things. He has published three books till now.

Copyright Disclaimer

Every single thing on this website including Articles, Videos, Images are copyrighted to Tahmid Islam. Any illegal reproduction of this website’s content will face legal consequences.